১৪ বছরে অ্যাবাকাস আইটি : প্রযুক্তিতে স্মার্ট মানুষ তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের শেকড় ও শৈশবের স্বপ্ন
অ্যাবাকাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ জহির ইকবাল নান্নু, পিতা: মো: আবুল হোসেন (বীর মুক্তিযোদ্ধা)। যশোর সদরের হাশিমপুর গ্রামের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, নিজের একটা ব্যবসা থাকবে, প্রতিষ্ঠিত একজন মানবিক উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি তার পিতার হাত ধরে মঞ্চে উঠে কবিতা আবৃত্তি করেছেন, গেয়েছেন গান, খেলেছেন ফুটবল, বাবা হাত ধরে করেছেন মঞ্চে অভিনয়। সেই ছেলে বেলা থেকেই তার মধ্যে নেতৃত্ব দেবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। স্কুল জীবন থেকেই মো. জহির ইকবাল হাশিমপুর অঞ্চলের প্রথম কনসার্ট আয়োজন করে আলোড়ন তুলে ফেলেন। তারপর থেকে নানা উদ্যোগ ও কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে তার সংগঠক ও উদ্যোক্তা হবার গল্প আমরা জানতে পারি।

প্রযুক্তিতে স্মার্ট মানুষ তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
কৃষিকাজ থেকে আইটি জগতের পথে হাঁটা
২০০১ সালে পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা নিজ গ্রামে ক্ষুদ্র পরিসরে মাগুর মাছ চাষ, গবাদী পশু খামার সহ বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। সে সময় থেকেই গ্রামের যুবদের নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা মঞ্চ নাটকে অভিনয় সহ নানা ধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এইচ.এস.সি পড়াশোনা শেষ করার পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি যশোর জেলা শহরে গমন করেন। আইটি ও প্রযুক্তি জগৎ শুরু থেকেই তার আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু না হলেও ধীরে ধীরে তিনি প্রযুক্তির প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েন। জহির ইকবাল বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে আইটি খাতে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। সেই বিশ্বাস আর স্বপ্ন থেকেই আজ অ্যাবাকাস সফ্ট বিডি লিমিটেড।
কম্পিউটার শিক্ষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ
২০০৫-২০০৬ সালের দিকে বাবার ইচ্ছেয় ভর্তি হন দড়াটানায় সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে, যদিও কোর্সটা সে সময় শেষ করা হয় না জহিরের। তার বাবার স্বপ্ন ছিলো যে ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সে লক্ষ্যে তিনি ২০০৯ সালে আবারও ইয়ান নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শেখা শুরু করেন। কম্পিউটার শেখার পাশাপাশি, ওই প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে কম্পিউটারে শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তারপর, ২০১১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং যশোর জেলা পরিষদ এর আয়োজনে বেসিক কম্পিউটার বিষয়ে ১৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এবং ২০১৩ সালে স্বপ্নদেখোর মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে গড়ে তোলেন অ্যাবাকাস আইটি। একটি কম্পিউটার দিয়ে শুরু করলেও জহিরের নেতৃত্বগুণে প্রতিষ্ঠানটি আরেকটি শাখা গড়ে তোলে।

প্রযুক্তিতে স্মার্ট মানুষ তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
দ্বিতীয় শাখা প্রতিষ্ঠা ও দক্ষতা উন্নয়ন
ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে নিজের জমানো কিছু পুঁজি দিয়ে যশোর কারবালা রোড খড়কি পীর বাড়ি মোড়ে খুলেন ২য় আইটি শাখা প্রতিষ্ঠান “অ্যাবাকাস কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার”। স্থানীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে নিজের উচ্চতর দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি যুব উন্নয়ন থেকে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর হতে ০২ ডিসেম্বর তারিখ পর্যন্ত ২১ দিনের ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন। এবং তারপর থেকে আইটি সেক্টরের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে থাকেন।
সফল ফ্রিল্যান্সিং এবং সামাজিক সংগঠনের যাত্রা
২০১৭ সাল থেকে লিংকডিনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে প্রথমে হাজার টাকা আয় করেন। এক সময় পরে তিনি মাসে লক্ষ টাকা আয় শুরু করেন। গড়ে তোলেন অ্যাবাকাসের ফ্রিল্যান্সিং বিভাগ। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাবাকাস যশোর জেলার সর্বাধিক প্রশিক্ষণার্থী সংবলিত আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠে। অফিস এ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও সহ অন্যান্য সেক্টর যেমন এ্যানিমেশন ও ডাটাবেজ এর সফলতায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে অ্যাবাকাস ৩য় শাখা আইটি পার্কে ৭ম তলায় চালু করতে সক্ষম হয়। শুরু থেকেই আইটি ব্যবসায়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যুব শক্তিকে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করার স্বার্থে আমরা “স্বপ্নদেখো” ও “মাইকেল মধুসুদন ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এমএমডিএফ বিডি)” নামে দুটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত করেন জহির। যার সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স নং-যশো ১৫৭৮/১৬ এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স নং:- যুউঅ/যশোর ১/২০১৭। প্রতিষ্ঠান দুটি এ্যাবাকাসের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

প্রযুক্তিতে স্মার্ট মানুষ তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন ও স্বীকৃতি অর্জন
দ্রুতই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসার সাথে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণ যোগ্যতা লাভ করে। আইটি ব্যবসায়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাবাকাস সফট বিডি লিমিটেড নামে জয়েন স্টক হতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর সদস্য পদ লাভ করে। এবং ২০১৯ সালে আইএসও এর স্বীকৃতি লাভ করে।
বর্তমানের বিশাল কর্মপরিধি
কাজের পরিধি আরো বিস্তৃত হওয়ায় বর্তমানে ”অ্যাবাকাস আইটি” সফট্ওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ৮ম ফ্লোরে প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফিটের স্পেস নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সামাজিক কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা
ব্যবসায়ের পাশাপাশি শুরু থেকেই স্বপ্নদেখো, অ্যাবাকাস ও এমএমডিএফবিডি বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। যার স্বীকৃতি হিসেবে দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকা হতে “সাহসী তরুণ্য সম্মাননা-২০১৭” অর্জন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের যুব প্রতিনিধি হিসেবে ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ গ্রহন, ২০২০ সালে করোনা চলাকালীণ সময়ে সামাজিক কাজের জন্য আইভিডি থেকে ইন্টারন্যাশনাল ভলেন্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড, ইউএনডিপি কর্তৃক সম্মাননা গ্রহণ এবং আইটি খাতে বিশেষ অবদান রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট হতে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার ২০১৯’ খুলনা বিভাগে প্রথম হয়ে গ্রহণ করেন।
সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহ
যশোর জেলার আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ৬৬টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কো- অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মাইক্রোসফট এর যশোর জেলা কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন জহির ইকবাল।

প্রযুক্তিতে স্মার্ট মানুষ তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে যুব উন্নয়ন ও সেবা
আমাদের সেই “স্বপ্নদেখো যুব কল্যান সংস্থা” ও “মাইকেল মধুসুদন ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এমএমডিএফ বিডি) যুবদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এর পাশাপাশি তাদের দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে কাজ করছে। আমাদের অর্থায়নে ইছালি ইউনিয়নের ৩১ জন প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান, খাদ্য-বস্ত্র ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে আসছি। অদ্যবধি আমাদের প্রতিষ্ঠান হতে বিভিন্ন মেয়াদী প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে আইটি ও ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন লক্ষাধিক যুব, নারী ও শিশু তার মধ্যে ৩,০০০ জনেরও অধিক যুব ও নারী নিজেদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ সকল যুবরা নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং, প্রাতিষ্ঠানিক চাকুরি এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ সকল যুবরা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ক্যারিয়ার বিষয়ক ট্রেনিং পরিচালনা করছে। অ্যাবাকাস স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে এবং প্রযুক্তিতে দক্ষ নাগরিক গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

প্রযুক্তিতে স্মার্ট মানুষ তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
উপসংহার: লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আগামীর দৃষ্টিভঙ্গি
আমাদের এর লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য হল উদ্ভাবনী আইটি সমাধান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যাপক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার ও উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করা। আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে, ডিজিটাল স্বক্ষরতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগাতে চাই। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো সমন্বিত আইটি সল্যুশন এবং বাংলাদেশি যুবদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা।